
নিজস্ব প্রতিনিধি
মোঃ গোলাম মোস্তফা:
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার এখন চরমে। ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা ও দেশি মদ—সবই এখন হাতের নাগালে। কিশোর-তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত জড়িয়ে পড়ছে এই মরণ নেশায়। এতে বেড়েছে চুরি, ছিনতাই, সংঘর্ষ ও পারিবারিক অশান্তি। ফলে ভাঙ্গুড়ার শান্ত জনপদ এখন আতঙ্কের নগরে পরিণত হচ্ছে।
৫০টির বেশি স্থানে চলছে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি, গত এক সপ্তাহের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকা ও আশপাশের গ্রামে অন্তত ৫০টিরও বেশি স্থানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চলছে। বড়াল ব্রিজ মাছবাজার, ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ড, কালীবাড়ি বাজার, পালপাড়া, শরৎনগর রেলস্টেশন, কৈডাঙ্গা রেলব্রিজ, অষ্টমনিষা ঘোষপাড়া, নুরনগর বাজার ও দিলপাশার রেলস্টেশনসহ অসংখ্য এলাকায় রাত নামলেই শুরু হয় মাদক লেনদেন।
এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাত নামলেই এখানে মাদক বিক্রি শুরু হয়। পুলিশ পাশ দিয়ে গেলেও কিছু বলে না। কখন অভিযান হবে তাও আগেভাগে জেনে যায় তারা।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চলছে ব্যবসা, স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার মূল হোতারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও অর্থবান। তারা বিভিন্ন মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে তৈরি করেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। উপজেলার অন্তত ১৫ জন বড় মাদক ব্যবসায়ী নিয়ন্ত্রণ করছেন পুরো কারবার।
কালিবাড়ি এলাকার নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা যেমন জানি কারা মাদক বিক্রি করে, প্রশাসনও জানে। কিন্তু বড় লোকদের ধরা হয় না, ছোট বিক্রেতাদের ধরেই অভিযান দেখানো হয়।
বেতুয়ান এলাকার এক অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে আগে ভালো ছাত্র ছিল, এখন ইয়াবায় আসক্ত। যদি মাদক এত সহজে না পেত, হয়তো ওর জীবনটা বাঁচানো যেত।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব লিখন সরকার বলেন,
পুলিশের উদাসীনতার কারণেই ভাঙ্গুড়ায় মাদকের ভয়াবহতা বেড়েছে। ছাত্রদল মাদকের বিরুদ্ধে সবসময় কঠোর ছিল এবং থাকবে।
উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আখিরুজ্জামান মাসুম বলেন,
মাসিক আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে বারবার বিষয়টি তোলা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ভাঙ্গুড়াকে মাদকের ঘাঁটিতে পরিণত করছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেন। ফলে বড় হোতারা থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে কেটে দেন।
চাটমোহর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরজুমা আকতার বলেন,
মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। বড় বা ছোট যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশের কেউ অনৈতিক সুবিধা নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।