
বিশেষ প্রতিনিধি
মোঃ গোলাম মোস্তফা :
সারের সংকটে থমকে গেছে রবি মৌসুমের চাষাবাদ; অভিযোগ ডিলারদের অনিয়ম ও প্রশাসনের উদাসীনতা
নিজস্ব প্রতিনিধি: মোঃ গোলাম মোস্তফা
চলতি রবি মৌসুমে সারের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় ভাঙ্গুড়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন কৃষকেরা। বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত কৃষক মিছিল নিয়ে পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করেন।
কৃষকদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে ডিএপি, ইউরিয়া ও টিএসপি সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ডিলাররা পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করতে না পারায় জমিতে রোপণকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
> আব্দুল মান্নান, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক কৃষক বলেন,
“আমরা সার না পেলে জমিতে বীজ ফেলব কীভাবে? সরকার নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছি না। ডিলাররা বলছেন, গুদামে সরবরাহ কম।”
আরেক কৃষক পলান মোল্লা অভিযোগ করেন, “ডিলাররা রাতের আঁধারে বেশি দামে বাইরে সার বিক্রি করছে। মৌসুমের শুরুতেই সার না পেলে আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।”
কৃষকেরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি অফিসের কার্যকর তদারকি না থাকায় কিছু অসাধু ডিলার সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। তারা অবিলম্বে সার সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আখেরুজ্জামান মাসুম বলেন,
“কৃষি কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে ডিলাররা সার মজুত ও অবৈধ বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে। এতে প্রান্তিক কৃষকেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. শারমিন জাহান বলেন,
“সার সরবরাহে সাময়িক কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে, তবে খুব শিগগিরই তা সমাধান করা হবে। কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল বলেন,
“কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”