
শাহেদ আহমেদ, সাতক্ষীরা:
যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, প্রতারণা এবং একমাত্র শিশু সন্তানকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক গৃহবধূ। তিনি তার সন্তানকে দ্রুত ফিরে পাওয়া এবং অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্যামনগর উপজেলার চাঁদনীমুখা গ্রামের বাসিন্দা মো. আতিয়ার গাজীর মেয়ে পারুল আক্তার।
লিখিত বক্তব্যে পারুল আক্তার জানান, ২০২২ সালে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার বাঁকা গ্রামের গোপাল ঘোষের ছেলে গোস্ট কুমার ঘোষের সঙ্গে হিন্দু ধর্মীয় রীতি ও আদালতের মাধ্যমে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোলজুড়ে জন্ম নেয় স্বপ্ন কুমার ঘোষ নামে এক পুত্রসন্তান, যার বর্তমান বয়স দুই বছর চার মাস।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের আগে গোস্ট কুমার ঘোষ তার পূর্বের বিয়ে ও সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন রাখেন। বিয়ের পর থেকেই তিনি বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে থাকেন। নানা প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিয়ে করা হলেও পরবর্তীতে তার প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পেতে শুরু করে।
পারুল আক্তারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী ৯ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। সেই সঙ্গে স্বর্ণালঙ্কার ও পৈতৃক ভিটাবাড়ি তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। দাবিকৃত অর্থ ও সম্পত্তি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এবং তার সন্তানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে তার স্বামী সন্ত্রাসী বাহিনীর সহায়তায় তার একমাত্র শিশু সন্তানকে জোরপূর্বক তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর বহুবার সন্তানের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও তাকে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি সন্তানকে দেখতে গেলে দা, কুড়াল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাকে মারধর ও হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে প্রাণভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে এসে আত্মরক্ষা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে পারুল আক্তার বলেন, “আমি একজন অসহায় মা। আমার একমাত্র সন্তানকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমি সন্তানকে দেখতে পাচ্ছি না। একজন মায়ের জন্য এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কিছু হতে পারে না। আমি আমার সন্তানের কাছে ফিরে যেতে চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গোস্ট কুমার ঘোষ একাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের জীবন বিপর্যস্ত করেছেন। এছাড়া তার কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ এবং তার নামে থাকা একটি জমির দলিলও জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন।
বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে তার একমাত্র শিশু সন্তান, স্বর্ণালঙ্কার ও জমির দলিল ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা, নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগ তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, মানবাধিকার সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।