
শাহেদ আহমেদ,
সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বেউলা পশ্চিম বিলের একটি খাল থেকে আব্দুর রহিম মালি (৬০) নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৭টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত আব্দুর রহিম মালি আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের শ্বেতপুর গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিন মালির ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন এবং প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন।
মৃতের জামাতা মহিউদ্দীন সরদার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার গ্রহণের পর আব্দুর রহিম মালি বাড়ির উঠানে ঘোরাফেরা করছিলেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সবার অগোচরে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি হয়তো আশপাশের কোথাও গিয়েছেন এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে আসবেন। কিন্তু রাত গভীর হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বুধহাটা ইউনিয়নের বেউলা পশ্চিম বিলের একটি খালে একজনের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে যান। পরে মরদেহটি আব্দুর রহিম মালির বলে শনাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
স্বজনদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার চোখ ও মুখে আঘাতের কিছু চিহ্ন দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা সৃষ্টি হলেও পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ভিন্ন তথ্য পেয়েছে।
আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম আহমদ খান জানান, স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আব্দুর রহিম মালি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর অসাবধানতাবশত তিনি খালের পানিতে পড়ে যান। পানিতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি আর উঠতে পারেননি এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ওসি আরও বলেন, খালের পানিতে দীর্ঘ সময় মরদেহ পড়ে থাকার কারণে কাঁকড়া বা অন্য কোনো জলজ প্রাণীর আঘাতে তার চোখ ও মুখে সামান্য ক্ষত সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারপরও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, আব্দুর রহিম মালির মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, মানসিক সমস্যায় ভুগলেও তিনি এলাকার সবার পরিচিত মুখ ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি