
বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার শেখের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে বিভিন্ন মহলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয় ও একটি বৈষম্যবিরোধী মামলাকে কেন্দ্র করে তাঁকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারলে চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে দেলোয়ার শেখ বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন কিংবা দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। বরং একজন নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে তাঁর কোনো পদ-পদবি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি এবং সরকারের বৃহত্তর প্রশাসনিক কাঠামোর একটি অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে সরকারের আইন, বিধিবিধান, আদেশ ও নির্দেশনা মেনে চলা এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে অংশীদার হিসেবে কাজ করা তাঁর দায়িত্ব।
দেলোয়ার শেখের দাবি, সেই দায়িত্ববোধ থেকেই বর্তমানে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের নির্দেশনা ও পরামর্শে তাঁর ইউনিয়নে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দাদশী ইউনিয়নকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
বৈষম্যবিরোধী মামলায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দেলোয়ার শেখ জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর দাবি, ওই সময়ে যারা তাঁকে আহত করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তিনি মামলা দায়ের করার পর প্রতিপক্ষের লোকজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে মামলার বাদী তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তাঁর নাম ভুলক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভায় অংশগ্রহণের বিষয়ে দেলোয়ার শেখ বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত তাঁকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়নি কিংবা বহিষ্কারও করেনি। ফলে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এবং চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমি যদি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর হয়ে থাকি, তাহলে আমার বিরুদ্ধে সরকার কি কোনো ব্যবস্থা নিত না? যারা আমাকে আওয়ামী লীগের দোসর বলছেন, তাঁরা প্রমাণ করুন আমি আওয়ামী লীগের কোন কমিটিতে, কোন পদে দায়িত্ব পালন করেছি। এমন কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারলে আমি স্বেচ্ছায় চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দেব।”
নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের পেছনে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ঈর্ষাকে দায়ী করে দেলোয়ার শেখ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর কর্মকাণ্ড এবং এলাকার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। এলাকার মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারেও তিনি আশাবাদী।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, দাদশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার শেখের দায়িত্ব পালনের ওপর বর্তমানে কোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞা নেই। এ কারণে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, দাদশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার শেখের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সব মিলিয়ে দাদশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার শেখের বিরুদ্ধে ওঠা রাজনৈতিক অভিযোগ, তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থন, প্রশাসনের অবস্থান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে এলাকায় আলোচনা চলছে। চেয়ারম্যানের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের বিতর্কের বাইরে থেকে তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন, স্থানীয় মানুষের সেবা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ইউনিয়ন গড়ার লক্ষ্যেই কাজ করে যেতে চান।