সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লা বুড়িচংয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আ. লীগের ১৩ নেতাকর্মী আ’ট’ক পাঁচবিবিতে ওসির অ’ভি’যা’নে মা’দ’ক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১৬০ বোতল ফা’য়া’র’ডি’ল উ’দ্ধা’র কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অ’ভি’যা’নে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি উ’দ্বা’র কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ায় পৃথক অ’ভি’যা’নে ২৩৫০ ভারতীয় বাজিসহ গ্রে’প্তা’র-১৬ ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে দলীয় মনোনয়ন পেলে উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজ করার প্রত্যয় শাহ আলমের কুমিল্লায় মা ও ভাতিজিকে কু’পি’য়ে হ’ত্যা, ছেলে আ’ট’ক বিজিবি কর্তৃক রাজশাহী সীমান্তে অ’ভি’যা’ন পরিচালনা করে ৩২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ০১ টি কষ্টি পাথর সদৃশ্য মূল্যবান পাথরের মূ’র্তি আ’ট’ক ন‌ওগাঁর পোরশায় ট্যা’পে’ন্টা’ড’লসহ দুই মা’দ’ক কারবারি আ’ট’ক নিয়ামতপুরে ৫০০ গ্রাম গাঁ’জা’সহ একজন গ্রে’প্তা’র

রাজবাড়ী কলেজের সহকারী অধ্যাপকের হাতে লাঞ্ছিত প্রভাষক আজাদুর রহমান ।

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১১৪ বার পঠিত

বাবলু শেখ রাজবাড়ীঃ

রাজবাড়ী সরকারি কলেজে পরীক্ষা চলাকালীন সময় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে আলোচনার ঝড় তোলে, পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় পরীক্ষার রক্ষিত ডিউটি রোস্টারে স্বাক্ষর করাকে কেন্দ্র করে।

রাজবাড়ী সরকারী কলেজের নিয়ম অনুসারে কোন প্রত্যাবেক্ষকের যে কোনো পাবলিক পরীক্ষা আরম্ভের ৩০ মিনিট পূর্বে অধ্যক্ষর কক্ষে রক্ষিত ডিউটি রোস্টারে স্বাক্ষর করে পরীক্ষা কক্ষে যাওয়ার নিয়ম থাকলেও। কিন্তু প্রভাষক মোঃ মাহাবুর রহমান , উক্ত নিয়ম লঙ্ঘন করে পরীক্ষা কক্ষে সরাসরী উপস্থিত হন ।

বিষয়টি শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক মোস্তফা কামাল অবগত হলে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং প্রভাষক কে. এম. আজাদুর রহমান, তার সিনিয়র কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি প্রদান সম্পর্কে জানাতে চান।

অধ্যক্ষ মহোদয় ৪ঃ৫০ মিনিটের দিকে তার অফিস কক্ষে,কে. এম. আজাদুর রহমান ও মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে তলব করলে তারা সেখানে উপস্থিত না হয়ে অধ্যক্ষের আদেশ অমান্য করেন। পুনরায় সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটের দিকে বহিরাগতদের নিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করেন এবং অধ্যক্ষের কক্ষে উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন। অবস্থা বিবেচনায় অধ্যক্ষ তথা সময়ে অফিস বন্ধ করে কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। অধ্যক্ষ ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ০৩ শিক্ষককের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ পরিপন্থী কাজ করায় শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণে প্রক্রিয়াধীন। মোঃ মাহাবুর রহমান, কে.এম. আজাদুর রহমান ও মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এর বিরুদ্ধে বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে ।

উক্ত শিক্ষকগণ এর আগেও কলেজের বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সভায় সাবেক একজন অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে এমন হীন কার্যকলাপের জন্য একাধিক শোকজ নোটিশও রয়েছে।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে কলেজের একাডেমিক ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।
১০ সেকেন্ডের ওই ভিডিও তে মারধরের অংশবিশেষ দেখা যায়। ভুক্তভোগী শিক্ষক হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এ কে এম আজাদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “দুপুরে পরীক্ষার ডিউটি চলাকালে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক কুতুব উদ্দিনকে, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের আমির স্যার ধাক্কা দেন। কুতুব স্যার এ বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আমি তার সঙ্গে ছিলাম। অভিযোগের প্রিন্ট নেওয়ার সময় অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তফা কামাল এসে আমাকে কলার ধরে টেনে নিচে নিয়ে যায় এবং কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এতে আমার ঘাড়, চোখ ও মুখে আঘাত লাগে। পরে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই এবং মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
প্রভাষক কুতুব উদ্দিন বলেন, “পরীক্ষার ডিউটির সময় ইসলামের ইতিহাস বিভাগের আমির স্যার আমাকে ধাক্কা দেন। পরে আমি অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। তখন মোস্তফা কামাল স্যার এসে আজাদুর রহমানকে ডেকে নিয়ে কিল-ঘুষি মারেন। ঠেকাতে গেলে বাংলা বিভাগের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকেও ঘুষি দেন। আমরা আজাদকে হাসপাতালে নিয়ে যাই, ওর ঘাড়-মুখে গুরুতর আঘাত লেগেছে।”
অভিযুক্ত শিক্ষক অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোস্তফা কামাল, যিনি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, তিনি বলেন, “ওরা একজন শিক্ষককে হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি জানতেই আমি তাদের কাছে যাই। তখন আজাদুর আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, তাই কলার ধরেছি—কিন্তু মারধর করিনি।”
কোন শিক্ষককে হুমকি দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তার বাড়ি খুলনা, এখানে চাকরি করে।” তবে নাম প্রকাশ করেননি।
রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম ইকরামুল করিম বলেন, “আমি শুনেছি দুই শিক্ষকের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছে। তবে মারধরের বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না।”
এ ঘটনায় শিক্ষক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “একজন শিক্ষক অন্য শিক্ষককে প্রকাশ্যে কলার ধরে মারধর করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য লজ্জাজনক ঘটনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 daily Ajker Songram
Customized By Shakil IT Park