
নিজস্ব প্রতিনিধি
মোঃ গোলাম মোস্তফা :
পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল উৎপাদন ও বিক্রি চলছে দেদারসে। উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে ডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জুয়েল রানার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর ফরিদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানাউল মোর্শেদের নেতৃত্বে চেয়ারম্যান জুয়েল রানার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে পরে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানকালে অবৈধভাবে জাল মজুত রাখার দায়ে চেয়ারম্যানের স্ত্রী মোছা. মনিজা খাতুনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এর আগেও একই বাড়িতে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ করেছিল বলে জানা গেছে। সে সময় চেয়ারম্যানকে সতর্ক করা হয়েছিল অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকতে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, চায়না দুয়ারি জাল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এই জাল দিয়ে মাছ ধরলে নদী ও খালের পোনা ও ডিম ধ্বংস হয়, যা জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফরিদপুর উপজেলায় বর্তমানে তিন শতাধিক চায়না দুয়ারি জালের কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ডেমরা ইউনিয়নে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০টি কারখানা আছে। এসব কারখানার পেছনে চেয়ারম্যান জুয়েল রানার প্রত্যক্ষ আশ্রয় ও প্রশ্রয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
ডেমরার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “চেয়ারম্যানের ছত্রছায়াতেই এসব কারখানা বহুদিন ধরে চলছে। কেউ প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।”
চেয়ারম্যান জুয়েল রানা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার ছোট ভাই ব্যবসা করত, তার জাল আমার বাসায় রাখা ছিল।”
ফরিদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানাউল মোর্শেদ বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ অবৈধ জাল মজুত বা বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান চলমান থাকবে।”