
মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী,
নীলফামারী
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় বজ্রপাতে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কাঁঠালী ইউনিয়নের বসুনিয়াপাড়া পুলের পাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনায় এক ভ্যানচালক নিহত এবং এক শিক্ষক গুরুতর আহত হন। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কাঁঠালী ইউনিয়নের দক্ষিণ দেশীবাই গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল লতিফের ছেলে, নিহত লাবলু হোসেন (৫০) এবং পেশায় একজন ভ্যানচালক। খুটামারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজিয়া ময়নাল হোসেন মাষ্টারের ছেলে, দেশীবাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গুরুতর আহত আক্তারুজ্জামান (৩৮) কাঁঠালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজকে জানায়, সকালে খুটামারা হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে শিক্ষক আক্তারুজ্জামানকে নিয়ে ভ্যানে করে দক্ষিণ দেশীবাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন লাবলু হোসেন। পথিমধ্যে বসুনিয়াপাড়া পুলের পাড় এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বজ্রপাতের কবলে পড়েন তারা। এতে ঘটনাস্থলেই লাবলু হোসেনের মৃত্যু হয়। অপরদিকে বজ্রপাতের আঘাতে শিক্ষক আক্তারুজ্জামানের বুকের ডান পাশ দগ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় ও স্বজনেরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে জান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এসময় জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (অসি) নাজমুল আলম বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি ও সতর্কতা সাম্প্রতিক সময়ে দেশে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে খোলা মাঠ, গ্রামীণ সড়ক ও জলাশয়ের আশেপাশে চলাচলকারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকছেন। এ সময় অসচেতন ভাবে বাইরে অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ বজ্রপাত থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি, বজ্রসহ বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, ফসলের জমি, নদী-খাল বা পুলের আশেপাশে অবস্থান না করা। উঁচু গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বিপজ্জনক, কারণ গাছ বজ্রপাত আকর্ষণ করে। মোবাইল ফোন ব্যবহার, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি স্পর্শ বা ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকা। এ সময় অটোরিকশা অটো ভ্যান বাইসাইকেল মোটরসাইকেল চালকদের নিরাপত্তা স্থানে অবস্থান নেওয়া জরুরী। এবং যারা ঘরের বাইরে থাকবেন, তারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেবেন এবং সম্ভব হলে পাকা ভবনের ভেতরে অবস্থান করবেন। তিনি বিশেষ করে, কৃষক, জেলে ও দিনমজুরদের উদ্দেশ্যে বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে কাজ করতে হবে। জীবন রক্ষা সর্বাগ্রে, ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। সবশেষে তিনি সবাইকে সতর্ক থেকে নিরাপদ থাকার আহ্বান জানান, তবে একটু সচেতনতা অনেক বড় দুর্ঘটনা থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে। তাই বজ্রপাতের সময় নিজে নিরাপদ থাকুন এবং অন্যদেরও সচেতন করুন। এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ ঘটে গেল। তাই জীবন রক্ষায় সচেতনতা ও সতর্কতাই হতে পারে একমাত্র ভরসা।