
স্টাফ রিপোর্টার :
পার্বতীপুর উপজেলাধীন ১০ নং হরিরামপুর ইউনিয়নে ভূমিদস্যু তপুর দৌরাত্বে সরকারী খাস জমি জবর দখলে লিজধারী ভ্যান চালক নাজির দিশেহারা হয়ে আদালতে মামলা করার খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের সরকারী ২২.১৫ একর খাস জমির মধ্যে মালিকানাধীন ৪.৪৬ একর দক্ষিণাংশে বাকি ৮.২১ লিজ বন্দোবস্তকারীগণ ভোগ দখল করে আসছে। অবশিষ্ট ৯.৪৮ এরমধ্যে কিছু অংশ জেলা কার্যালয়ে বন্দোবস্তকারীগণের লিজ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আর কিছু অংশ সরকারের খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা জানা গেছে। সরকারি কর্মকর্তাগণের মাফযোগ অনুযায়ী নিন্মের বিবরণ এরুপ- সরকারী খাস জমি জবর দখল নির্দেশনা বাস্তবায়ন সূত্রঃ জেসা প্রশাসকের কার্যালয়, দিনাজপুর এর গত ১৮/০২/২০১৩ পৃঃ তারিখে এসএ/বন্দোবস্ত/চার-৫ ১৩/৮৭(২)নং সস্মারক। উল্লেখ করা হয় উপযুক্ত বিষয় ও সুত্রের প্রেক্ষিতে জানানো হয় মোঃ শাহাদাৎ হোসেন শাদো ও মোঃ তৌফিকুল ইসলাম তপু পিতা-মৃত হুমায়ন করিম, সাং-দঃ হরিরামপুর নামীয় ব্যক্তিগণ পার্বতীপুর উপজেলাধীন দক্ষিণ হরিরামপুর মৌজার ৫০৩ নং দাগে ২২.১৫ একর সম্পত্তির মধ্যে-১,২১একর সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানাধীন দাবী করে জনৈক আলী আকবর গং, পিতা-রহিম বকস, সাং-দক্ষিণ হরিরামপুর, পার্বতীপুর, দিনাজপুর নামীয় ব্যক্তিগণকে বেদখলের চেষ্টা করেন। ফলে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। উক্ত সম্পত্তি জনৈক আলী আকবর গং তাদের বন্দোবস্তকৃত সম্পত্তি হিসেবে দাবী করেন। সূত্রোক্ত সারকের নির্দেশনা মোতাবেক অত্র উপজেলাধীন দঃ হরিরামপুর মৌজার ৫০৩ নং দাগে ২২.১৫একর সম্পত্তি সরেজমিন তদন্ত ও উক্ত দাগের ভোগ দখলকারীগণের কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনান্তে দেখা যায় ৫০৩ নং দাগে ২২.১৫ একর সম্পত্তির মধ্যে ১৭.৬৯ একর সম্পতি ১নং খতিয়ানভুক্ত, ৪.৪৬ একর সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানাধীন। নিদের্শনা মোতাবেক উক্ত দাগের ভোগ দখলকারীগণের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় ১নং খতিয়ানভুক্ত ১৭.৬৯ একরের মধ্যে ৮.২১একর সম্পত্তির বন্দোবস্তগ্রহণকারির কাগজপত্র সঠিক পাওয়া যায়। অবশিষ্ট ৬.৮৮একর সম্পত্তির ভোগ দখলকারিগণ বন্দোবস্ত সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছেন মর্মে দাবি করলেও তার পক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি এবং ২.৬০ একর সম্পত্তি ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে বিভিন্ন বন্দোবস্ত কেইস মূলে বন্দোবস্ত করলেও তাদের অনুকূলে কবুলিয়ত দলিল সম্পাদিত হয়নি। উল্লেখ্য তারা কবুলিয়ত সম্পাদনের নিমিত্ত জেলা প্রশাসক, দিনাজপুর মহোদয় বরাবর আবেদন করেছেন যা মহোদয়ের কার্যলয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিদের্শনা মোতাবেক ৫০৩ নং দাগের পরিসীমা চিহ্নিত করা হয়। উক্ত দাগের খাস খতিয়ান ভুক্ত ১৭.৬৯ একর এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন ৪.৪৬ একর সম্পত্তির অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি ৫০৩ নং দাগের দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত যা স্কেচ ম্যাপে সবুজ কালিতে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং খাস খতিয়ানভুক্ত ১৭.৬৯ একর সম্পত্তি স্কেচ ম্যাপে লাল কালিতে চিহ্নিত করে। এছাড়াও ভূমিদুস্য আসামীরা প্রায়শই নালিশী সম্পত্তি নিজের মনে করে যত্রতত্র বলে থাকে। গত ইং ২৩/০৭/২০২৬ তারিখে বাদীর ভোগ দখলীয় সম্পত্তির সীমানা চিহ্নিত মাটির আইল বেআইনীভাবে কোদাল দ্বারা কেটে ফেলে নালিশী সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করায় আকবর আলীর ছেলে নাজির হোসেন আদালতে মামলা রুজু করে। যাহার খারিজ খতিয়ান নং-১৩৫৬। অতঃপর ডি,সি, আর প্রাপ্ত হইয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিকট চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত যার কেস নং-XIII/২০৯/৮৬-৮৭, তাং-৩১/০২/৮৬ মূলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নং-বার-২০৯/৮৬-৮৭ মূলে একর প্রতি ৫০০/-টাকা হারে ৮৬৭ মোট ৭০৫/- টাকা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের শর্তে গত ইং ৩১/০১/৮৭ তারিখে ৩০১/০১(৩) আর,এম স্মারকে বাদীর পিতা বরাবর বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। অতঃপর বাদীর পিতা মোট সেলামী ৭০৫/-টাকা মধ্যে ১ম কিস্তির ১৪১/-টাকা জেলা প্রশাসক বরাবরে পরিশোধ করে ১৯৯৩-৯৪ সালের খাজনা ৭.২২ টাকা, তৎপর নিয়মিত ভাবে বাংলা ১৪৩৩ সাল পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে ভোগ দখল করার দাবি করেন। সেই সুত্রে আকবর গং জমি জবর দখলকারীগণের বিরুদ্ধে দিনাজপুর জেলা আদালতে ভূমি আইনের মুল লক্ষ্য অবৈধ দখল, ভূমি জালিয়াতি, এবং জোরপূর্বক জমি দখল রোধে গুরুত্বপূর্ণ ধারা বেআইনি দখল বা অপরাধের জন্য নির্দিষ্ট কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধানের ৭ ও ৮ ধারায় আসামীগণের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের ৪(ক) (খ)/৪(২)/৭(২)/৩ উপধারা (২) এর উপধারা ৮(২)/১০ ধারা মতে অপরাধ আমলে নিয়ে আসামীগণের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করতঃ জেল হাজতবাসের দাবি জানান।