
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীর নির্যাতনে শিকার হয়ে গৃহবধূ তাসলিমা আক্তারের (৩২) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ওই গৃহবধূর স্বজনদের দাবি স্বামীর নির্যাতনে তাসলিমার ডান হাত ভেঙে যায়। এছাড়া তার মৃত্যুর ঘটনা হত্যাকে আত্মহত্যা বানাতে। মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজায় তার স্বামী।
গত শনিবার উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের গলদাপাড়া গ্রামের আলতু মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাসলিমা আক্তার (৩২) উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বিদাই গ্রামের মোঃ সামসুদ্দিনের মেয়ে। অপরদিকে নিহতের স্বামী মোঃ আসাদুজ্জামানের একই ইউনিয়নের গলদাপাড়া গ্রামের আলতু মিয়ার ছেলে।
নিহতের ভাই আবুল কাশেম বলেন ।প্রায় ১২ বছর আগে আসাদের সঙ্গে তাছলিমার বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে যৌতুকের জন্য আসাদ তার বোনকে নির্যাতন করতেন। বিয়ের ক’মাস পর স্ত্রী সন্তান রেখে আসাদ উধাও হয়ে যান। প্রায় সাত বছর সে স্ত্রী সন্তানের খোঁজ খবর নেয়নি। গত জুন মাসে অজ্ঞাত স্থান থেকে আসাদ বাড়িতে ফিরে আসেন। এসেই তাছলিমাকে জানান সে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এতে তাদের মধ্যে কলহের মাত্রা বেড়ে যায়। আসাদ তাছলিমাকে শারীরিক মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। গত শনিবার ভোরে আসাদ তাসলিমাকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তাছলিমার ডান হাত ভেঙে যায়। তাকে পিটিয়ে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যার নাটক সাজায় আসাদ। এরপর তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাসলিমা আক্তার কে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আর ও বলেন আসাদ ও তার পরিবারের কেউ আমাদের তাছলিমার বিষ পানের বিষয়টি জানায়নি। আত্মহত্যার নাটক সাজাতে ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে গিয়ে তাছলিমার মরদেহ দেখতে পাই। এসময় নিহতের স্বামী আসাদ ও তার পরিবারে লোকজন হাসপাতালে লাশ ফেলে পালিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে নিহতের স্বামী আসাদুজ্জামানের বক্তব্য নিতে তার ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিক বার ফোন দিলে ও মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ,এফ,এম নাসিম বলেন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে স্বজনরা গতকাল রাতে মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে পরবর্তীকালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।