
মোঃ আল আমিন ইসলাম
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার পশ্চিম গুলমুন্ডা আদর্শ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনার অনিয়ম। গোপন সূত্রে সংবাদ পেয়ে,তথ্য সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গেলে, দেখা মেলেনি কারো। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ঠিক যখন ঘড়ির কাটায় দশটা বাজে তখন এসে হাজির প্রধান শিক্ষক।
এবং স্কুল খুললেন প্রধান শিক্ষক মোঃ মোখলেসুর রহমান (৪৬) নিজেই। যেখানে নিয়মানুযায়ী স্কুল খোলার সময় ৮:৩০ হতে। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, কত সাংবাদিক এলো গেল আমাদের কিছুই করতে পারেনি, আর আপনার আবার কি করার জন্য এখানে এসেছেন। এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে তারা জানান, এ স্কুলের শিক্ষকরা প্রতিনিয়ত দশটা বেজে স্কুল খোলে এবং তিনটে বেজে ছুটি দেয়। ওই স্কুলের বাচ্চা একেবারে নেই বল্লেই চলে, স্কুলের আসবাব পত্র সেটিও নেই বলে চলে।
কিন্তু সেদিকে নজর নেই প্রধান শিক্ষক মোকলেসুর রহমানের (৪৬) এর। প্রধান শিক্ষক কে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলে সে উত্তরে বলে আমরা স্কুলে চারজন শিক্ষক প্রধান শিক্ষক মোঃ মোখলেছুর রহমান (৪৬), সহকারী শিক্ষক কে এন এম মাসুদ (৫২), খন্দকার জেসমিন আক্তার (৫০), সিমা আক্তার (২৭) ।
সাড়ে দশটা এগারোটা বাজে সহকারী শিক্ষক হাজুর হন কে এন এম মাসুদ। স্কুলে এসে তাকেও জিজ্ঞেস করা হলে বাকি দুজন শিক্ষিকা কোথায় , এখন তো প্রায় এগারোটার উপরে বাজে। তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখান। কিন্তু যেখানে বলা হয়েছে সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক উপস্থিত থাকবে সাড়ে আটটা বেজে। সেখানে তারা দশটা বেজে স্কুলে আসেনি। তাদের এই কার্যকলাপ দেখে ঐ স্কুলে বাচ্চা না দিতে অনীহা অভিভাবকদের। এ বিষয়ে শিক্ষা অফিসার মোছাঃ নিলুফা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি বলেন যে, বিষয়টি আমার নজরে আছে তারা প্রতিনিয়ত এরকম অনিয়ম করে আসছে। আমরা বিষয়টি দেখতেছি।
দ্বিতীয় শ্রেণীর এক ছাত্র মোঃ নাজমুল ইসলামকে (১১) জিজ্ঞেস করা হলে ছেলেটি বলে, আমাদের হেডমাস্টার ও সহকারী যারা এখানে আছে সবাই দশটার পরে আসে আমাদের আবার বারোটার আগে ছুটি দেয়। আমাদের লেখাপড়ায় সেভাবে তারা করাতে পারে না। আমি আর এই স্কুলে যাব না, আমি ভালো কোন স্কুলে আমার বাবা মাকে বলে ভর্তি হব।
স্কুলে গিয়েই আমাদের সামনে সবার আগে পাওয়া যায় একটি ছাগল ঘর। প্রাথমিক বিদ্যালয়টা তারা একটি গবাদি পশুখানা বানিয়ে রেখেছেন। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে প্রধান শিক্ষক জবাব দেন না।
এটি ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের নজরদারির আড়ালেই থেকে যায়। এমন করে চলতে থাকলে না জানি সামনের দিকে আরো কত কিছু দেখতে হবে।
তাই এখনই এদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠ তদন্তের প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসারের আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ বলে এলাকাবাসী ও অভিবাবকদের মতামত। দ্রুত আইনের ব্যাবস্থা নিলে ঐ এলাকার শিক্ষার মান যে কোথায় গিয়ে দাড়াবে তার বলার অপেক্ষা রাখেনা।