
মোঃ আল আমিন ইসলাম
গত আগস্ট ২০২৩ মাসে রংপুরের মিঠাপুকুরে এক গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হয়। এসময় ধর্ষককে হাতেনাতে আটক করে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। পরে ধর্ষকের লোকজন সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে ধর্ষককে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী পরিবার গরীব হওয়ায় ন্যায্য বিচার পাওয়া নিয়ে নানা প্রকার আলোচনা চলতে থাকে। ভুক্তভুগীর পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের নিঝাল গ্রামের দরিদ্র কৃষক হামিদুল তার বন্ধু সাদেকুলসহ গত বুধবার রাতে পাশের আখিরা নদীতে মাছ ধরতে যায়। হামিদুলের স্ত্রী (৩০) বাড়িতে একা শুয়ে থাকে । এ সময় মাছ ধরা বাদ দিয়ে কৌশলে হামিদুলকে রেখে বন্ধু সাদেকুল ইসলাম ওই গৃহবধূর ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষককে ঘরে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে ধর্ষকের লোকজন দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে ধর্ষককে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওই গৃহবধূর স্বামী হামিদুল বলেন, সাদেকুল ইসলাম আমাকে রেখে ওষুধ খাওয়ার কথা বলে বাড়িতে যায়। কিন্তু সে তার বাড়িতে না গিয়ে আমার বাড়িতে যায়। সুযোগ বুঝে ঘরে ঢুকে স্ত্রীর মুখ চেপে ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বন্ধুর আসতে দেরি হওয়ায় সে বাড়িতে চলে যায় এবং সেখানে গিয়ে তার স্ত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। স্ত্রীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে ধর্ষক সাদেকুলকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে তাকে সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়িঘর ভাংচুর চালিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে যায় সাইদুল ইসলাম এর সহযোগীরা। এ ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষক ও হামলা-ভাংচুরে নেতৃত্ব দেওয়া সাইদুল ইসলামসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলার পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের জন্য মামলার তদন্তকারী অফিসার র্যাব-১৩, রংপুর বরাবর একটি অধিযাচন পত্র দায়ের করে। অধিযাচন পত্রের ভিত্তিতে তথ্য উপাত্ত গুলো বিবেচনায় এনে তাৎক্ষণিক ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। পরবর্তীতে সিপিএসসি, র্যাব-১৩ রংপুর এর একটি চৌকস আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিকে ধরতে সক্ষম হয়।