
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরগুনার বহুল আলোচিত হৃদয় হত্যাকাণ্ডের অপ্রাপ্তবয়স্কক ১৯ অভিযুক্তের মধ্যে ১২ জনের ১০ বছর করে আটক আদেশ এবং ৪ জনের ৭ বছর করে আটক আদেশ প্রদান করার হয়েছে। এছাড়া ৩ অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ মশিউর রহমান খান এ রায় দেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষ। রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন দণ্ডিতদের স্বজনরা।
দণ্ডিত আসামিরা হলো ইউনুছ কাজী অরফে ইউনুছ,মো: রানা আকন,মো: ইমন হাওলাদার, মো: জুয়েল কাজী, মো: নয়ন হাওলাদার (পলাতক),মো: সজিব (পলাতক),নাজমুল শিকদার, রাইয়ান বিন অন্তর অরফে অন্তর,সিফাত ইসলাম (পলাতক), মো: মোশারেফ,মো: সাইফুল মৃধা,মো: রাব্বি,মো: সাগর গাজী মো: সাইফুল কাজী,সোহাগ কাজী এবং মো: ফাইজুল ইসলাম।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৫ মে ঈদুল ফিতরের দিন বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের গুলবুনিয়া এলাকার পায়রা নদীর তীরে বেড়াতে যান এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট প্রত্যাশী হৃদয়। এসময় পূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা একত্রিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ লাঠি দিয়ে হামলা চালিয়ে হৃদয়কে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ মে বিকেলে মারা যায় হৃদয়। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৪-১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন হৃদয়ের মা ফিরোজা বেগম।
এ ঘটনায় ওই বছরের ১৬ নভেম্বর ৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৯ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক শরজিৎ কুমার ঘোষ। এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক নয় অভিযুক্তের বিচার কাজ এখনো চলমান।
হৃদয়ের মা রায় নিয়ে তার মন্তব্যে জানান আমি নারী শিশু আদালতের উক্ত রায়ে সন্তুষ্ট।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল (পাপলিক প্রসিকিউটর নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল) বলেন বাদী ফিরোজা বেগমের একমাত্র ছেলে হৃদয়কে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং সেই হত্যা বিচার বিজ্ঞ নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে ন্যায়ত আইনানুগ ভাবে পেয়েছি ।
আসামি পক্ষের স্বজন এবং আইনজীবী জানান আমরা এই বিচারে সন্তুষ্ট নই। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।