
বিশেষ প্রতিনিধি:
ঢাকার দোহারে সংঘবদ্ধ দূর্ধর্ষ ডাকাতচক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে দোহার থানা পুলিশ। বুধবার সকালে ডাকাতি মামলায় আটক দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- দক্ষিন দেবীনগর গ্রামের হানিফ চোকদারের ছেলে সুজন চোকদার (২১), একই গ্রামের শেখ লিটনের ছেলে শেখ ইমন (২১), জাহান আলীর ছেলে পরশ @ জাহিদ বেপারী(২০), শেখ লাল মিয়ার ছেলে বাচ্চু মিয়া(৩২),বজলু বেপারীর ছেলে শাকিল বেপারী(২০), মধু বেপারীর ছেলে সরু @ সুরুজ মিয়া(৩৪),কুলছড়ি গ্রামের দাদন চোকদারের ছেলে রাকিব চোকদার(২০) ও চরকুশাই গ্রামের শামছু চোকদারের ছেলে নাজমুল চোকদার(২৫)।
মামলা ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিন রাধানগর গ্রামের মৃত তাজেল মোল্লার ছেলে মো.ছন্দু মোল্লা,তার স্ত্রী করিমন বিবি,ছেলে রেজাউল করিম রাজন,ছেলের স্ত্রী বীনা আক্তার এবং নাতী বেলায়েতকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েন।আনুমানিক দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বসতঘরের কাঠের দরজা ভেঙ্গে ৭/৮ জনের একটি ডাকাতদল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করেন।এ সময়ে ছন্দু মোল্লার ছেলে রেজাউল করিম রাজনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন।
এ ঘটনায় পুরো পরিবার জিম্মি হয়ে ঘরে থাকা পাঁচ আনা ওজনের স্বর্নের চেইন,যাহার আনুমানিক মুল্য ৩৫ হাজার টাকা। পুত্রবধূ বীনা আক্তার ও শাশুড়ি করিমন বিবি’র কানের দুই জোড়া স্বর্নের দুল,যাহার আনুমানিক ওজন আট আনা মুল্য ৫৫ হাজার টাকা ,৩টি এ্যান্ডড্রয়েট মোবাইল ফোন যাহার আনুমানিক মুল্য ৬৫ হাজার টাকা ও একটি অত্যাধুনিক টর্চ লাইট যাহার আনুমানিক মুল্য ৬ হাজার টাকা।সর্বমোট মুল্য ১ লক্ষ ৬১ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময়ে ডাকাতের এলোপাথারী আঘাতে গুরুত্বর আহত রেজাউল করিম রাজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।সংবাদ পেয়ে দোহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এ ঘটনায় একটি দোহার থানায় ডাকাতি মামলা রুজু করেন।
এ বিষয়ে দোহার থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো.আজহারুল হক জানান,আটককৃতরা দীর্ঘদিন যাবৎ দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার আশপাশের গ্রামে ডাকাতি করে আসছিলো। এরা পেশাদার ডাকাত ও একাধিক ডাকাতি মামলার আসামী।
এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম জানান,মামলা রুজু হওয়ার পর উন্নত মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের স্থান নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবার বিলাশপুর ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের কয়েকটি বাসা-বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুরো দূর্ধর্ষ ডাকাত টিমটিকে আটক করতে সমর্থ হই।এক পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে আটক ৮ জনই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ডাকাতি করা মালামাল উদ্ধারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।