
মোঃ আল-আমিন ইসলাম
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারী জলঢাকায় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের নির্মানাধীন পরিত্যক্ত ঝুকিপূর্ণ ইউনিয়ন অফিস এখন মাদকের অভয়নগরে পরিনত হয়েছে।
এতে করে যেমনি এলাকার উঠতি বয়সের যুবকরা মেতে উঠছে ভয়ানক নেশার জগতে তেমন ক্ষুন্ন হচ্ছে এলাকার ভাবমূর্তি।
ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বাজার হওয়ায় মাদক সেবনকারী নেশাগ্রস্ত যুবকরা উক্ত বাজারে এবং পরিষদের স্থান সমুহে প্রবেশ করে মাতলামি করে ঝগড়া বিবাদ, চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ মুকল কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরছেন।
ফলে ইউনিয়ন পরিষদসহ বাজারের সম্মান ও ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষদের মনে দেখা দিয়েছে দ্বিমত প্রতিক্রিয়া। দীর্ঘ ২ যুগ পূর্বে তৎকালীন পরিত্যক্ত ইউনিয়ন কাঞ্চন অফিসকে ঝুকিপূর্ণ হিসাবে আখ্যায়ীত দিলেও ভবনটি সংস্কার কিংবা নিলামে ডাক দিয়ে আমুল পরিবর্তন করার কোন কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি উপজেলা প্রশাসন।
ভবনটি এভাবে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের কোন কাজেই আসছে না। স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নির্দেশ প্রদান করলে ইউনিয়ন পরিষদের ওই ঝুকিপূর্ণ ভবনটির স্থানে ব্যাপক উন্নয়ন মুলক কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করা যেত এমনটিই ধারনা স্থানীয় বাসিন্দাদের। ঘটনাটি জলঢাকা উপজেলা শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের। পরিষদের সচিব মামুনার রশীদ জানান, পরিষদের মোট ১ একর ৪ শতক জমি। এর মধ্যে পুরনো এই ঝুকিপূর্ণ ভবনটি প্রায় ৭ শতক জমির উপর নির্মানাধীন। ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য এজাহারুল ইসলাম মেম্বার জানান, ব্রিটিশ সরকারের সময় এটি নির্মিত হয় এবং স্বাধীনতার পর ওই ভবনটিতে তৎকালীন দাড়ি কাজী চেয়ারম্যান সাহেব ( বোর্ডঘর ) কাউন্সিল অফিস হিসাবে ব্যবহার করতো।
পরে ঝুকিপূর্ণ ভবন ভেবে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য একটি টিনসেট ঘর তৈরী করে সেখানে পরিষদের কাজকর্ম করেন। ১৯৯১ সালে ওই ঝুকিপূর্ণ ভবনটিতে আখের আলী নামের একজন বি.এস কৃষি অফিসার স্ত্রী সহ বসবাস শুরু করেন এবং ১৯৮৫ সালে ভবনটিতে ধস সৃষ্টি হলে ওই কৃষি অফিসার পাশে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে চলে আসেন। সেই থেকে অদ্যাবধী সময় পর্যন্ত এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে। এখন এটি মাদক সেবনকারীদের অভয়নগরে পরিনত হয়েছে।
বাজারের ব্যবসায়ী দ্বিনবন্ধু রায় জানান, ওই পরিত্যক্ত ভবনটিতে মাদক ( গাঁজা ) সেবন করে আর সেই দুর্গন্ধযুক্ত ধোঁয়া বাজারে প্রবেশ করে ফলে বাজারের সুষ্ঠু পরিবেশে বিঘ্নতা সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ( জামান জানান,
এই ঝুকিপূর্ণ ভবনটিতে মাদক সেবনকারীদের আনাগোনা রীতিমতো বৃদ্ধি হওয়ায় এলাকার ভাবমূর্তিসহ পরিষদের সম্মান নষ্ট হচ্ছে। তাই আমি উপজেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আমার স্বনির্বন্ধন আহবান থাকবে যাতে আমার ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ওই ঝুকিপূর্ণ ভবনটি নিলামের আওতাভুক্ত করে সংস্কার বা ভেঙ্গে ফেলার ব্যবস্থা করেন। তাহলে আমার ইউনিয়নের যুবসমাজ একটু হলেও নেশাগ্রস্ত থেকে অব্যহতি পাবে।