
অনলাইন ডেস্ক:
চিকিৎসা করাতে এসে ভারতে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। তাকে খুঁজতে কাজ করছে ভারতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্তকারী সংস্থা। তবে দেশটিতে চলমান জাতীয় নির্বাচনের কারণে তদন্তকাজ কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। যদিও কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত নিখোঁজ রহস্য উন্মোচন হবে। আর তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দারা নিখোঁজ রহস্যে সাতটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন।
সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। ছবি: সংগৃহীত
সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। ছবি: সংগৃহীত
সুব্রত আচার্য
কী সেই ৭টি প্রশ্ন?
প্রশ্ন ১: একজন সংসদ সদস্য কেন সঙ্গীহীন ভারতে এলেন?
প্রশ্ন ২: তার সঙ্গে কেন মাত্র একটি হ্যান্ডব্যাগ ছিল?
প্রশ্ন ৩: সীমান্ত অতিক্রম করার সময় কে ধারণ করল ১ মিনিটের ভিডিও?
প্রশ্ন ৪: কার গাড়িতে বরাহনগর থেকে উঠে গেলেন এমপি আনার?
প্রশ্ন ৫: ফোনে কথা না বলে যে ক্ষুদে বার্তা দিলেন সেটা কি আদৌ তার লেখা?
প্রশ্ন ৬: আট দিন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মাত্র দুদিন মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করা সম্ভব হয়। পরে হঠাৎ কেন ট্র্যাক করা যাচ্ছে না?
প্রশ্ন ৭: চলমান নির্বাচনের সময়ে হঠাৎ কেন ভারতের এসেছিলেন তিনি?
আনোয়ারুল আজিম আনার ঝিনাইদহ-৪ আসনের তিনবারের নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। তার নিখোঁজের নয়দিন পেরিয়ে গেছে। এখনও এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
গত ১২ মে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে দর্শনা-গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এমপি আনার। নদীয়া সীমান্ত অতিক্রম করার পর সন্ধ্যায় কলকাতার অদূরে ব্যারাকপুর কমিশনারেট এলাকার বরাহনগর থানার ১৭/৩ মন্ডলপাড়া লেনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছান। পরদিন দুপুর ১টা ৪০ নাগাদ ওই বাড়ি থেকে কিছুটা হেঁটে বিধানপার্ক কলকাতা পাবলিক স্কুলের সামনে গিয়ে একটি গাড়িতে উঠেন। ওই সময় তিনি হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন। সেই দৃশ্য দেখেছেন গোপাল বিশ্বাসের পরিচিত শুভজিৎ মান্না।
তবে সন্ধ্যায় গোপাল বিশ্বাসের মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মেসেজ আসে, তিনি (এমপি আনার) রাতে ফিরছেন না, দিল্লি যাচ্ছেন। এ সময় যাতে তাকে আর ফোন না করা হয়। তিনি দিল্লি পৌঁছে নিজেই ফোন করবেন- এমনটাও মেসেজে লেখা ছিল।
এরপর আনারকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। তিন দিন পর ১৫ মে সকাল সোয়া ১১টায় তিনি শেষ মেসেজ করে জানান, দিল্লি পৌঁছে গেছেন। তার সঙ্গে ভিআইপিরা আছেন।
বরাহনগর থানায় ১৮ মে লিখিত মিসিং ডায়েরিতে এসব তথ্য উল্লেখ করেন ভারতে তার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস।