
বিশেষ প্রতিনিধি:
মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে চোর ধরতে রুটিপড়া খাওয়ানোর ঘটনায় অংশ নেন কথিত কবিরাজ ইস্রাফিল শেখ। বিশ বছরের বেশি সময় ধরে সাধারণ মানুষের সাথে এমন অভিনব প্রতারণা করে আসছে সে। গোপালগঞ্জে নিজবাড়ি থেকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। রুটিপড়া খেয়ে ব্যবসায়ী অসুস্থ হবার ঘটনায় ৬জনের মামলা হয়েছে। বাকিদের ধরতে চলছে অভিযান। অভিযুক্ত ইস্রাফিল শেখ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের নিশ্চিন্তপুরের মৃত রাজ্জাক শেখের ছেলে।
জানা যায়,৩৬ বছরের ইস্রাফিল শেখ। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সাথে চোরধরার প্রতারণা করে আসছে। তার দেয়া রুটিপড়া খেয়ে মৃত্যুর মুখে ঢোলে পড়ে অনেকেই। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে চোর ধরার এমন কৌশল অবলম্বন করছেন ইস্রাফিল। বাবা রাজ্জাক শেখের কাছ থেকে শিখেছেন প্রতারণার এমন পদ্ধতি। অবশেষে রোববার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা কথিত এই কবিরাজ।
সোমবার (১১-ই সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ১৫দিন আগে কালকিনির রামচন্দ্রপুর বাজারের ব্যবসায়ী দুলাল শিকদার ও মামুন শিকদারের দোকানে চুরি হয়। পরে রোববার সকালে বাজারের পাশে একটি মাদ্রাসা মাঠে আয়োজন করা হয় রুটিপড়া খাওয়ার। উপস্থিত সন্দেহভাজন অর্ধশত মানুষকে কথিত কবিরাজের দেয়া একটি করে রুটিপড়া খাওয়ান দুলাল ও মামুন। জাহিদুল বেপারীকে চেতনানাশক মিশিয়ে দুটি রুটি ও একটি ডিম খাওয়ানো হলে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা সাজানো হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ। এদিকে গুরুতর অবস্থায় জাহিদুলকে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেলে।
মাদারীপুরের কালকিনির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাজমুল হাসান জানান, এই ঘটনায় ব্যবসায়ীর বড়ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬ জনের নামে কালকিনি থানায় মামলা করেন। আর এই মামলায় শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হবে। এদিকে গ্রেফতার ইসরাফিলের বিরুদ্ধে এমন প্রতারণার মামলা আগেও হয়েছে। তিনি ২০ বছর ধরে এমন কর্মকান্ডে জড়িত।
এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা অকপটে স্বীকার করেছে অভিযুক্ত ইসরাফিল শেখ। তিনি দাবি করে বলেন, বাড়িতে গিয়ে প্রথমে ১ হাজার ৭শ’ ৫০ টাকা দেন দুলাল শিকদার ও মামুন শিকদারসহ কয়েকজন। পরে তারা ২০ হাজার টাকা জমা রাখেন। এজন্য কিছু ময়দা, ৫০টি রুটি ও একটি ডিম তাদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু কাকে ও কিভাবে এই রুটিপড়া ও ডিম খাওয়ানো হয়েছে সেটা আমি জানি না। আমি আমার বাবার কাছ থেকে এই শিক্ষা গ্রহণ করেছি। আমার বাবাও দীর্ঘদিন ধরে এই কবিরাজি করতেন। তিনি মারা যাবার পর একবছর ধরে আমি বড় আকারে এই কাজটি শুরু করেছি।