
নিজস্ব প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে চিকিৎসার নামে দুর্নীতি ও রোগীদের ভোগান্তি।
মেডিকেলের ডাক্তার সেবা দিয়ে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন চেম্বারে, কিন্তু সেবা পাচ্ছেন না স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা।
কোথায় জানাবে তারা তাদের এই দূর্ভোগের কাথা। তাদের এই মনের আকুল আবেদন?
মেডিকেলে ঠিকমতো নাই সাধারণ রোগীরদের যাওয়ার জন্য টয়লেট।
যাও একটা আছে, সেটাতে নারী পুরুষ একত্রিত হয়ে সময়ের পর সময় পার করে সিরিয়াল ধরে একই টয়লেটে করতেছে প্রসাব, পায়খানা।
২৮ সেপ্টেম্বর সরজমিনে গিয়ে দেখা য়ায়, সারাদিনভর বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা নিতে আসা ও জটিল রোগের জন্য ভর্তি হতে আসা রোগি ছিল প্রচুর উলেক্ষিত জলঢাকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
ওখানকার ভর্তি রোগী ও সাধারণ রোগীদের সাথে চিকিৎসার ব্যাপারে কথা বলতে গেলে তারা সাংবাদিকদের জানান যে, আমাদের সারাদিন হলো কোন ডাক্তার এখন পর্যন্ত দেখতে আসেনি। এখানে অনেক জটিল ও কঠিন রোগী এসে ভর্তি হয়, কিন্তু তাদের কার কি সমস্যা, কার সমস্যা কতদুর লাগোব হলো সে ব্যাপারে কোনো কর্নপাত নেই কারও। ওখানকার রোগীরা চিকিৎসার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন।
জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ দেখে মনে হয় এটি কোন মুদিখানা, ও এটা কোন খামার বাড়ী। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স এবং ডাক্তাররা এটাকে একটা ব্যাক্তিগত প্রতিষ্ঠান বানিয়ে রেখেছেন। চলা ফেরা করতেছেন যে যার ইচ্ছে মতো।
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি বলেন যে ডাক্তার মেজবাহ, আজকে ডিউটিতে রয়েছেন, তিনি এই রোগী দেখবেন।
কিন্তু সরেজমিনের চিত্র পুরাই উল্টা। ওখানে অন্য কোনো ডাক্তার বসে আছেন। ডাক্তার মেজবাহ, নিজ মেডিকেলে রোগী না দেখে বিভিন্ন চেম্বারে রোগী দেখে বেড়াচ্ছেন।
তখন এই বিষয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধানের সাথে আবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি বলেন, আমি দেখতেছি এবং ডাক্তার মেজবাহ,কে বলা হয়েছে তিনি এখন রোগী দেখবেন।
কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও দেখা মেলেনি ডাক্তার মেজবাহর।
এদিকে মেডিকেলে রোগীরা কাতরাচ্ছেন চিকিৎসার অভাবে।
এ বিষয় নিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সিভিল সার্জন নীলফামারী, তিনি বলেন যে আপনাদের কাছে কলম আছে আপনারা লেখেন, বিষয়টা আমরা দেখতেছি।
রোগীরা অসহায়ের মত মেডিকেলে পড়ে আছে নেই ফ্যান, নেই টয়লেট, নেই ভালো চিকিৎসা, নেই ভালো খাওয়া দাওয়া, পুরো মেডিকেলটাতে দুজন নার্স দিয়ে পরিচালনা করতেছেন।
এভাবে চলতে থাকলে ভর্তি হওয়া রোগীদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে, এবং চিকিৎসার অভাবে গরিব অসহায় রোগীরা মারা যাবেন।
জলঢাকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর উপর থেকে জন মানুষের আস্থা উঠে যাবে। মেডিকেলের রোগীরা বলেন যে, আমরা চাই আমাদের ভালো চিকিৎসা হোক, আমরা সুস্থ হয়ে আমাদের পরিবারের কাছে ফিরতে চাই। আমাদের একটাই আশা আমরা ভালো চিকিৎসা পাই। এবং ভাল মত সেবা যেন আমরা এই মেডিকেল থেকে পাই এই আশাই রাখি।