
রফিকুল ইসলাম রফিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম সদর থানাধীন চরকুমরেরবস গ্রামের ছবিরন বেওয়া (৮০) কে তার শয়ন ঘরে গলা কেটে হত্যা করা হয়। গত ২৫/১০/২০২৩ তারিখ সকাল ৬.০০ ঘটিকার সময় পরিবারের লোকজন ঘড়ে মৃতদেহ দেখে কুড়িগ্রাম থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে ছবিরন বেওয়াকে তার শয়ন ঘরে গলা কাটা রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরবর্তীতে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়।
উক্ত বিষয়ে মোঃ সৈয়দ আলী মুন্সি (৫৫) বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এ কে এম ওহিদুন্নবী এর নের্তৃত্বে কুড়িগ্রাম সদর থানার একটি চৌকস দল এই ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যহত রাখে এবং বিভিন্ন ভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন।
বিধবা ছবিরন বেওয়া (৮০) অসহায় ও হতদরিদ্র বৃদ্ধা। কুড়িগ্রামের দুর্গম চর কুমরেরবস গ্রামে তার বাস। গরু ছাগল বিক্রির ৪৫০০০/- টাকাই ছিলো তার জীবনের শেষ সম্বল। তিনি কখনোই এই টাকা হাত ছাড়া করতেন না। নিজ কোমরে গুজে রাখতেন। অবশেষে টাকাই তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়। মাত্র ৪৫,০০০/- টাকার জন্য প্রতিবেশি নাতী মোঃ মাইদুল ইসলাম (২২) এর হাতে খুন হতে হয় ছবিরন বেওয়াকে।
ঘাতক মাইদুলকে গ্রেফতারের পর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করলে আসামী ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। তার বর্ণনায় জানা যায়, ঘটনার দিন ২৪ অক্টোবর ২০২৩ তারিখ রাত্রি অনুমানিক ১০ ঘটিকার সময় ছবিরন বেওয়া (৮০) তার নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পরলে আসামীরা ঘরের পিছন দিকের টিনের বেড়ার নিচের মাটি কেটে সিধ দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে এবং ছবিরন বেওয়ার কোমরে রাখা ৪৫০০০/- হাজার টাকা নেয়। এসময় ছবিরন রেওয়ার ঘুম ভেঙে গেলে আসামীদের চিনতে পারলে তারা ঘরে থাকা ধারালো বটি দিয়ে ছবিরন বেওয়ার গলা কেটে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য বালিশ চেপে রাখেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামীরা পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে আসামী মাইদুলকে গ্রেফতারের পর তার দেয়া তথ্য মতে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ধারালো বটি উদ্ধার করা হয়।