
নিজেস্ব প্রতিবেদক:
শরীয়তপুরের জাজিরায় পুলিশকে মারধর করে গাঁজাসহ দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (২৯-ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাজিরা থানায় কথিত সেই যুবলীগ নেতা সাগর মাদবরসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাফিজুর রহমান।
এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় ৫০০ গ্রাম গাঁজা সহ আরিফ ও যুবলীগ নেতা সাগর মাদবরের বড়ভাই সবুজ মাদবরকে ৫০০ গ্রাম গাঁজা সহ আটক করে এএসআই বেলাল, কনস্টেবল ফারুক, জোহান ও সবুজ। পরে থানায় নেয়ার পথে সাগরের নেতৃত্বে স্থানীয় ২০-২৫ জন লোক এসে পুলিশকে ডাকাত বলে মারধর করে। এসময় সবুজ ও আরিফকে গাঁজাসহ ছাড়িয়ে নেয় কথিত ওই যুবলীগ নেতা।
ঘটনা অন্যদিকে মোড় দিতে পুলিশের বিরুদ্ধে ফেইসবুক লাইভে এসে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সাগর। ফেইসবুকে দেয়া দু’টি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশকে ডাকাত বলে মারধর করছেন সাগরসহ স্থানীয় কয়েকজন। তাদের কয়েকজনের কাছে বিভিন্ন আকৃতির লাঠি রয়েছে। এরমধ্যে যুবলীগের কথিত ওই নেতা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা গেছে, ‘তোরা ডাকাত, তোদের আইডি কার্ড কোথায়।’ এছাড়াও বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় পুলিশকে গালিগালাজ ও মারধর করতে দেখা যায় ভিডিওটিতে। এরপর আবার লাইভে এসে স্থানীয় কিছু লোকজন জড়ো করে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেন ওই যুবলীগ নেতা। ঘটনার পরপরই পুলিশের ব্যাকআপ টিম ঘটনাস্থলে পৌছালে পালিয়ে যায় সাগরডহ তার সঙ্গে থাকা সাঙ্গপাঙ্গরা।
পুলিশের উপর হামলার ঘটনা সম্পর্কে ওই যুবলীগ নেতা মুঠোফোনে আজকের সংগ্রামকে বলেন, ঘটনার সময় আমি আমার দোকানে ছিলাম। আগে-পরে কি হয়েছে তা আমি জানি না। আমি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। বাজারে আমার সাথে অনেক লোকজন থাকে। আমি দোকান থেকে চিল্লাচিল্লির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে যাই। যাওয়ার পর দেখি পুলিশ সদস্য বেলাল। আমি তাকে চিনি এবং তার সাথে আমার ভালো সম্পর্ক ছিলো। তাকে দেখে আমি জিজ্ঞেস করি এখানে কি হয়েছে! এরপর সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়। সাগরের দাবি, পুলিশ টাকার জন্যই তার ভাই সবুজ ও আরিফকে আটক করেছে।
অভিযুক্ত সাগর মাদবর বড় গোপালপুর ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোঃ মুকুল খান। পাশাপাশি এই ঘটনায় জড়িত থাকলে সাগরের বিরুদ্ধে দলগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। মুকুল খানের দাবি গত ২৪ বছর ধরে তিনি যুবলীগের জাজিরা উপজেলা সভাপতি। তবে সাগরকে গোপালপুর ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ৩ বছর আগে।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন সাগরসহ ঘটনায় জড়িতরা। পুলিশ আতঙ্কে ঘরে তালা দিয়েছেন কেউ কেউ। ঘটনাস্থলের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাজারে অনেক দোকানদার খুলছেন না দোকান। স্থানীয়দের দাবি ঘটনায় জড়িত নয় এমন কাউকে যেনো হয়রানি না করা হয়।
এবিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাফিজুর রহমান জানান, পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে মামলা করা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানান তিনি। তবে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনায় জড়িত নয় এমন কাউকে হয়রানি করা হবেনা বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।