
নুর আলম:
শরীয়তপুরের জাজিরায় মনটু বেপারী (৫২) নামে হত্যা মামলার এক আসামিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল (১-মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুর সাকিমালি মাদবর কান্দি গ্রাম দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এসময় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত মনটু বেপারীর সঙ্গে থাকা বাবু বেপারী (২৩) নামে অপর একজন গুরুতর আহত হয়।
ঘটনার পরপরই নিহত মনটু ও আহত বাবুকে উদ্ধার করে দ্রুত জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায় তার স্বজনরা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনটুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তার সঙ্গে থাকা বাবুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন।
পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। স্বজনদের দাবি, জমিজমা ও মামলাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁকে হত্যা করেছে তারই ফুপাতো ভাই এমদাদ মাদবর ও তার লোকেরা।
নিহত মনটু উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের ভোলাইমুন্সি কান্দির মৃত আসেদ বেপারীর ছেলে। ও আহত বাবু একই গ্রামের ইদ্রিস বেপারীর ছেলে। ঘটনার সময় বিয়ের বরযাত্রী থেকে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন তারা দুজন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় হুকুমালি সরদারের ছেলে মামুন আজকের সংগ্রামকে জানান, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে কাছের একটি দোকানে ক্রিকেট খেলা দেখছিলেন। এসময় আহত বাবুর মোটরসাইকেলের পিছনে বসা ছিলেন মনটু। হটাৎ করেই এমদাদ মাদবরসহ তার সঙ্গে থাকা ১৫-২০ জন লোক এসে ধারালো অস্ত্র (চাইনিজ কুড়াল) নিয়ে প্রথমে বাবুকে কোপ মারে। পরে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যায় বাবু। এসময় বাবু চিৎকার দিয়ে দৌড়ে চলে যায় এবং মনটু ঘটনাস্থলের পাশের বাড়ি মালেক মাদবরের ঘরে ঢুকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। এসময় ঘরের মধ্যেই মনটুকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত মনটুকে উদ্ধার করতে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ঘাতকরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিলো এমদাদ মাদবর ওমনটু বেপারীর মধ্যে। এর প্রায় পাঁচ বছর আগে (২০১৯ সালে) নিহত মনটু একই কারণে সাকিমালি মাদবর কান্দির লিটন মাদবরের ছেলে রিয়াজ (১৪) নামে এক শিশুকে গুলি করে হত্যা করে। ওই মামলায় দেড় বছর জেল খাটেন নিহত। লিটন এবং এমদাদ চাচা ভাতিজা এবং নিহত রিয়াজ এমদাদের নাতি হতো। এমদাদ এবং নিহত মনটু দুজন আপন মামাতো ফুপাতো ভাই হলেও দুই গ্রামের দুটি দলের দলনেতা ছিলেন দু’জন। রিয়াজ হত্যাকান্ডের পর স্বপরিবারে স্থায়ী ভাবে ঢাকায় থাকতেন মনটু। মাঝেমধ্যে কোনো অনুষ্ঠান বা বিচার-আচারে গ্রামে আসতেন তিনি।
সম্প্রতি স্থানীয় করিম মাস্টার নামে এক ব্যাক্তিকে কুপিয়ে আহত করেন মনটুর দলবল। যার নেতৃত্ব দেন মনটু বেপারী ও তার ছেলেরা। ঘটনার পর থেকেই সাকিমালি মাদবর কান্দির এমদাদ মাদবরসহ তার লোকজন মনটুর উপর ক্ষুদ্ধ ছিলেন। সবশেষ গতকাল সন্ধ্যায় তাকে রাস্তায় পেয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এবিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাফিজুর রহমান মুঠোফোনে আজকের সংগ্রাম’কে বলেন, নিহত মনটু বরযাত্রী থেকে বাসায় ফেরার পথে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে আমরা পুলিশ পাঠিয়েছি। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। সবশেষ শনিবার সকাল (১০’টা) পর্যন্ত আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। এই ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও জানান তিনি।