
বাবলু শেখ রাজবাড়ীঃ
রাজবাড়ী বালিয়াকান্দি উপজেলায় নরেশ চন্দ্র বিশ্বাসের বাড়ির পাশের গাব গাছে মিলল শ্রমিক লীগ নেতার গলায় ফাঁস নেওয়া অবস্থায়, ঝুলন্ত মরদেহ।
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস (৫৪) নামে এক শ্রমিক লীগ নেতা ও মোটরসাইকেল মেকারনিক এর গলায় ফাঁস নেয়া অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২২ এপ্রিল) সকালে জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার চৌধুরী পাড়া গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের একটি গাব গাছ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা।
নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস বালিয়াকান্দি উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক , বালিয়াকান্দি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় নিজ দোকানে মোটরসাইকেল মেকানিকের কাজ করতেন দীর্ঘদিন যাবত , নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস একজন ছোট মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ছিলেন , তার মটর গ্যারেজের পাশে একটি পার্টসের দোকান ছিলো।
নরেশ চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে নিরুপম বিশ্বাস বলেন, প্রতিদিনের মতো সোমবার ভোর ৫ টার দিকে আমার বাবা হাঁটতে বের হন। সকাল পৌনে ৬ টার দিকে আমার মা বাড়ি থেকে পাকা রাস্তার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে প্রতিবেশী নিহার রঞ্জনের জমির ওপর গাব গাছের ডালের সঙ্গে পুরাতন শাড়ির কিছু অংশ দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় আমার বাবাকে দেখতে পান। মায়ের চিৎকার শুনে আমিসহ স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবাকে উদ্ধার করে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে নিয়ে যাই। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বাড়ি যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তা নির্মাণ করার চেষ্টা করছিলেন। তবে প্রতিবেশীরা রাস্তার জন্য জমি দিতে রাজী হচ্ছিল না। বাবা এ বিষয় নিয়ে মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত ছিলেন। আমাদের ধারণা, রাস্তা করতে না পারার কষ্টে বাবা গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে আমার মা দূর থেকে দেখে বুঝতেই পারেননি আমার বাবা গলায় ফাঁস নিয়েছেন , মা বলছেন তুমি এখানে জঙ্গলের মধ্যে কি করছো , তোমাকে মশায় কামড়াচ্ছে না , কথার কোন উত্তর না পেয়ে বাবার নিকট গিয়ে দেখে গলায় ফাঁস সহ মাটিতে পা রেখে দাঁড়ানো অবস্থায় রয়েছে বাবা , আগে মা বুঝতে পারে নাই বাবার গলায় ফাঁস লাগানো , দূর থেকে মা ভাবছিলেন গাছের নিচে বাবা দাঁড়িয়ে আছে । নরেশের স্ত্রী জানান আমার স্বামীর পা মাটিতে ছিল ।
বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাড়ির পাশের একটি দাগে নরেশ চন্দ্র বিশ্বাসসহ তার ৪-৫ জন প্রতিবেশীর জমি রয়েছে। তবে জমিটি বণ্টননামা করা নেই। ওই জমির ওপর দিয়ে নরেশ চন্দ্র বিশ্বাসের বাড়ি যাতায়াতের পায়ে হাঁটার রাস্তা ছিল। তিনি পায়ে হাঁটার রাস্তায় মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগী ভালো রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করছিলেন। গতকাল রোববার তিনি ভেকু দিয়ে মাটি কাটতে গেলে অন্য জমির মালিকরা বাঁধা দেন এবং কটু কথা বলেন। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। নিজের স্ত্রীর কাছেও তিনি রাস্তা না করতে পারার হতাশার কথা ব্যক্ত করেন। অবশেষে তিনি হতাশা থেকে সোমবার ভোরে বাড়ির পাশে গাব গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলে, নিহতের স্ত্রী জানিয়েছেন যে শাড়ির কাপড় দিয়ে ঝুলেছিলেন নরেশ চন্দ্র সে শাড়ির কাপড় আমাদের না। তবে এ শাড়ির কাপড় কার এবং কোথা থেকে এসেছে সেটাও আমরা তদন্ত করে দেখব।
ওসি আরও বলেন, নরেশ চন্দ্র বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নরেশ চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে নিরুপম বিশ্বাস বালিয়াকান্দি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। মামলা নং -০৮। এই প্রতিবেদক রাজবাড়ীর ডাইস ফ্যাক্টরী পোসমাডাম ঘটনা স্থলে উপস্থিত ছিলেন , পোসমাডাম এর কার্যক্রম শেষ করতে সন্ধ্যা পেরিয়ে যায় , সেখান থেকে নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস এর লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে বালিয়াকান্দির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় ।