
মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী,
নীলফামারী
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন থেকে তাকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়ে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা শহরের ডোমার সড়কে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের শাখা কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক মোস্তাকিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আরিফ আল মামুনের সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সদস্য মইনুল ইসলাম, এনামুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশগ্রহণ কারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ব্যাংক খাতের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই ইসলামী ব্যাংকের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে তার পদত্যাগ প্রয়োজন। সমাবেশে সদস্য সচিব আরিফ আল মামুন বলেন, ইসলামী ব্যাংকে অতীতে সংঘটিত হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি ও অনিয়মের ঘটনায় সাধারণ গ্রাহকরা আজও ক্ষুব্ধ। এস আলম গ্রুপের প্রভাব খাটিয়ে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান ও অযোগ্য ব্যক্তিদের বিপুল পরিমাণ ঋণ প্রদান করা হয়েছে, যা মূলত ব্যাংক লুটপাটের অংশ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের ছেলের বন্ধুকে চটচটি ব্যবসার নামে ২৩২ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অসংখ্য বিতর্কিত ঋণ অনুমোদনের ঘটনা ইসলামী ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সভাপতির বক্তব্যে মোস্তাকিমুল ইসলাম বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের কোটি কোটি মানুষের আমানতের প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিদের নেতৃত্বে রাখা যাবে না। আমরা অবিলম্বে চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগ দাবি করছি। অন্যথায় ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণ কারীরা ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অতীতের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানান।
উল্লেখ্য, মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ বক্তাদের বক্তব্য ও দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপিত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান বা ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি।