
লুৎফর রহমান:
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জে টানা বৃষ্টির প্রভাবে কয়েক দিনের ব্যবধানে সবজি ও মাছের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে ৬০ টাকার নিচে প্রায় কোনো সবজি মিলছে না। একই সঙ্গে চাষের বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
সোমবার (২৭ জুলাই) গোপালগঞ্জ শহরের বড় বাজারের কাঁচাবাজার ও মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ঢেঁড়স এখন ৬০ টাকা কেজি। মিষ্টিকুমড়া ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৮০ টাকা, উচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৩০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দল ২৫ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৩০ থেকে ৮০ টাকা এবং পটল ৩৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের একটি লাউ, যা আগে ৩০-৪০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন কিনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।
সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও বেড়েছে দাম। পাঙাশ, রুই, কাতলা ও সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন মাছের দাম কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে রুই মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগেও ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকার মধ্যে ছিল।
মাছ বিক্রেতা জহর জানান, যেসব জেলা থেকে চাষের মাছ আসে, সেখানে অতিবৃষ্টির কারণে অনেক মাছ ভেসে গেছে। এছাড়া ইলিশের বাজারেও আবার দাম বেড়েছে। এসব কারণে অন্যান্য মাছের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজারে আসা একাধিক ক্রেতা বলেন, বর্তমান দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজেটের মধ্যে বাজার করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় প্রয়োজনীয় জিনিস না কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
সবজি ব্যবসায়ী হানিফ, ইকবাল ও মুদি দোকানি মিজুসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, টানা বৃষ্টিতে মাঠের সবজি নষ্ট হওয়ায় আড়তে সরবরাহ কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। তাদের মতে, বর্ষা মৌসুমে সবজির দাম কিছুটা বাড়লেও এবার বৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি।
গোপালগঞ্জ জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, চলতি জুলাই মাসে জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে প্রায় ৮৫ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ৩৬০ জন সবজি চাষি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাইরের জেলা থেকে সবজি আনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারদরে।
তিনি আরও জানান, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিক্রেতাদের অতিমুনাফা পরিহার করে যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে