
ডেস্ক রিপোর্ট (দৈনিক আজকের সংগ্রাম)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ম নিয়েছে এক নবজাতক, যার শরীরে পাওয়া গেছে বিরল জিনগত রোগ Ichthyosis। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি একটি লিথাল (প্রাণঘাতী) জিনজনিত রোগ, যার কোনো নির্দিষ্ট প্রতিকার নেই।
জেনেটিক্স ও বিবর্তন বিষয়ক চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি তিন লাখ নবজাতকের মধ্যে একজন এই বিরল রোগ নিয়ে জন্মায়। এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের ত্বক অস্বাভাবিক ভাবে মোটা হয়ে যায় এবং শরীর জুড়ে শক্ত প্লেটের মতো স্তর তৈরি হয়। এসব স্তর ফাটলে রক্তপাতও হতে পারে এবং শিশুর চলাফেরা, খাওয়া দাওয়া এমন কি শ্বাস-প্রশ্বাসেও মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবজাতকটি জন্মের পরপরই ত্বকের অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা হয়। দ্রুত তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে নেওয়া হয় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা Ichthyosis রোগ শনাক্ত করেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, এ ধরনের রোগে আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত দীর্ঘদিন বাঁচে না। তবে যত্ন ও আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে জীবন কিছুটা সময়ের জন্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
🔍 কি এই Ichthyosis?
Ichthyosis একটি বিরল জিনগত রোগ, যা প্রধানত ‘লিথাল জিন’ এর প্রভাবে হয়। এই রোগে জন্মগতভাবে ত্বকের কোষ স্বাভাবিকভাবে ঝরে পড়ে না। ফলে ত্বকে জমে থাকা মৃত কোষ গুলো ধীরে ধীরে শক্ত আবরণে পরিণত হয়।
👨⚕️ চিকিৎসা ও সচেতনতা:
এ রোগের কোনো স্থায়ী চিকিৎসা না থাকলেও বিশেষ পরিচর্যা ও চিকিৎসা দিয়ে শিশুকে কিছুদিন সুস্থ রাখা যায়। তবে এতে অভিভাবকদের কোনো দোষ নেই, কারণ এটি পুরোপুরি জিনঘটিত। সমাজের উচিত এই পরিবারটির পাশে থাকা এবং সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
📌 সতর্কতা:
Ichthyosis রোগটি ছোঁয়াচে নয়। এটি অন্য কারও শরীরে ছড়ায় না। তাই এই রোগে আক্রান্ত শিশুকে সামাজিক ভাবে বর্জন নয়, বরং ভালোবাসা ও সহানুভূতিতে আগলে রাখাটাই মানবিকতা।