
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ॥
উত্তরের কৃষি প্রধান জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও দমকা বাতাসে নুয়ে পড়েছে আমন ধান। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। তিন দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় জমির মাটিতে শুয়ে পড়েছে পাকা ধান— সাথে নুয়ে পড়েছে কৃষকের স্বপ্নও।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত তিন থেকে চার দিনে জেলায় ২২.৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ২শ ৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। পাশাপাশি ৭ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪শ হেক্টর জমিতে আগাম সবজি রোপণ করা হয়েছে।
রানীশংকৈল উপজেলার চোপড়া গ্রামের কৃষক হোসেন আলি জানান, “আমি প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে আমন রোপণ করেছিলাম। বৃষ্টি আর বাতাসে প্রায় সব ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কয়েকদিন আগে ছিল কারেন্ট পোকার আক্রমণ, এখন আবার বৃষ্টি। মনে হচ্ছে এবার লোকসানই গুনতে হবে।”
একই চিত্র সদর উপজেলার ফকদনপুর এলাকাতেও। স্থানীয় কৃষক নুরল ইসলাম বলেন, “আগাম জাতের লম্বা ধান মাটির সাথে মিশে গেছে। জমে থাকা পানি দ্রুত না সরলে এবং রোদ না পেলে ধান পচে যাবে। কিছু জমিতে তো ধানের গাছে নতুন গজান শুরু হয়ে গেছে।”
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) আলমগীর কবীর বলেন, “গত তিন দিনের বৃষ্টিতে নিম্ন থেকে অতিনিম্ন জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, যেসব ধান নুয়ে পড়েছে সেগুলো গোছা করে বেঁধে দিতে এবং জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে। এতে কিছুটা হলেও ক্ষতি কম হবে।”
কৃষকদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে না আসে, তবে ঠাকুরগাঁওয়ে এবার আমন ধানের উৎপাদন মারাত্মকভাবে
ব্যাহত হবে।