
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার কেরানীগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশ খাদ্য উৎপাদন, মওজুদ, সরবরাহ এবং নিবন্ধনহীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়ে ৩ প্রতিষ্ঠানকে ৩ লখ টাকা জরিমানা ও এক ব্যক্তিকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
২০ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিকেলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলার রামেরকান্দা এলাকায় অবস্থিত ক্যাফে পদ্ম পুকুর কে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ৩৯ ধারা এবং ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ৫২ ও ৫৩ ধারা মোতাবেক ২ লাখ টাকা জরিমানা, রোহিতপুর বোডিং মার্কেটের টেস্টি ট্রিটকে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং একই এলাকার নিউ মাসুম বেকারীর একজন ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত।
এসময় রামেরকান্দা অগ্রখোলা রোডে অবস্থিত ক্যাফে পদ্ম পুকুর রেস্টুরেন্টে স্কুল-কলেজ চলাকালীন বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীকে পাওয়া গেলে তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ডেকে এবং অবিভাবকদের টেলিফোনে জানিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মালিকরা ভুল স্বীকার এবং এমনটি হবে না বলে ক্ষমা চাওয়ায় তাদেরও সতর্ক করে দেয়া হয়।
এ ছাড়া নিউ মাসুম বেকারিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন ও মোড়ক না থাকায় এক লাখ টাকা জরিমানা এবং টেস্টি ট্রিটকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নিম্ম মানের খাবার পরিবেশের কারণে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে আদালত
ক্লাস চলাকালে ঘুরতে যাওয়া প্রসঙ্গে সরকারি ইস্পাহানি কলেজের এক শিক্ষক বলেন,
দিনদিন ছাত্রছাত্রীদের নৈতিকার অবক্ষয় হচ্ছে, পড়ালেখায় গুরুত্ব দিচ্ছে না তারা। এতে সামাজিক অবক্ষয়ের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। লেখাপড়ার মূলস্রোত থেকে তারা দুরে সরে যাচ্ছে।। আমি মনে, করি এক্ষেত্রে শুধু শিক্ষক আর প্রশাসনকেই দায়িত্ব দিলে হবেনা অবিভাবকদেরও আরও বেশি খেয়াল রাখতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ কিছু কফি শপের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো তাদের প্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলাকালে ছাত্রছাত্রীরা আড্ডাদেয়। ছাত্রছাত্রীদের কারণে অনেক সময় ঘুরতে আসা সাধারণ দর্শনার্থীরা অস্বস্তিতে পরে। আমরা রেস্টুরেন্টটিতে অভিযান চালিয়ে এর সত্যতা পেয়েছি এবং বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীদের আটক করে তাদের প্রতিষ্ঠানের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি।পাশাপাশি তাদের অবিভাবকদেরর এবিষয়ে জানিয়েছি। তাছাড়া ২টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অপরাধে তিন লাখ টাকা জরিমানা ও একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।