
মোঃ আব্দুল আজিজ শেখ নওগাঁঃ
নওগাঁ পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) কর্তৃক সীমান্ত এলাকা হতে ৯৪.৭৫০ কেজি ওজনের ০১টি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেছে।
গত ০৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) অধিনায়কের সরাসরি নির্দেশনায় এর সহকারী পরিচালক মোঃ হাচানুর রহমানের নেতৃত্বে ১৪ বিজিবির একটি চৌকস টিম গোপন ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানতে পারেন যে, খঞ্জনপুর বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার মরাডাঙ্গা এলাকায় বনবিভাগের পুরাতন আকাশমনি বাগানের মধ্যে কতিপয় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারী একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের মূর্তি ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সমবেত হবে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী পরিচালক মোঃ হাচানুর রহমানের নেতৃত্বে ০৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষ টহলদল আনুমানিক রাত্রি ৮:০০ ঘটিকায় সীমান্ত পিলার ২৫০/২-এস হতে আনুমানিক ২৩০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মরাডাঙ্গা এলাকার বনবিভাগের পুরাতন আকাশমনি বাগানে (জিআর-৫৬০৮৪৮, এমএস-৭৮সি/১২) অভিযান পরিচালনা করেন। উক্ত অভিযান চলাকালে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীরা বিজিবি টহলদলের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের কাছে থাকা মূর্তিটি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে টহলদল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ০১টি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মূর্তিটির ওজন ৯৪.৭৫০ কেজি।
পরবর্তীতে স্থানীয় নজিপুর জুয়েলারি সমিতির অভিজ্ঞ কর্মকার দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষান্তে উদ্ধারকৃত মূর্তিটি প্রকৃত দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের মূর্তি হিসেবে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়। এছাড়াও ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, পাহাড়পুরএর প্রতিনিধি মূর্তিটি সরেজমিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মূর্তিটিকে ১১–১২ শতকে ব্যবহৃত উচ্চমানের কষ্টি পাথরের একটি মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করেন।
এছাড়াও নওগাঁ ও জয়পুরহাট সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবৈধ সীমান্ত পারাপার প্রতিরোধে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আন্তঃসীমান্তীয় সকল প্রকার অপরাধ কার্যক্রম দমনে সর্বাত্মক অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন অধিনায়ক, পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)।