
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারী ও তাঁর ছেলেকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া, প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার আটকে রাখা এবং নাতনিকে দেখতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোছা. সানোয়ারা খাতুন (৪০) ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ ঘিরে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগে বাড়িছাড়া, স্বর্ণালংকার ফেরত না দেওয়ার দাবি:
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সানোয়ারা খাতুনের ছেলের সঙ্গে অভিযুক্ত এক নারীর প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁর ছেলেকে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে রাখা হয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর প্রায় আট মাস আগে তিনি ছেলের শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে যাওয়ার সময় তাঁর কাছে প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার ছিল।
সানোয়ারা খাতুনের দাবি, গত ১ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্তরা অন্য একটি বাড়িতে চলে যান এবং তাঁর স্বর্ণালংকারও ফেরত দেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাতনিকে দেখতে গিয়েও রেহাই নেই, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, গত ১৪ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে নাতনিকে দেখতে গেলে সানোয়ারা খাতুন ও তাঁর ছেলে বাধার মুখে পড়েন। এ সময় তাঁদের মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি। ভবিষ্যতে ওই বাড়িতে গেলে নাতনিকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
এ ঘটনায় কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন সানোয়ারা খাতুন।
প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হবে কি?
পারিবারিক বিরোধের আড়ালে মারধর, স্বর্ণালংকার আটকে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগকারীর বক্তব্যের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বক্তব্য ও পুলিশের তদন্তের ফল জানা গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।