
বাবলু শেখ, রাজবাড়ীঃ
রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামপুর মৌজায় পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী রহিমা বেগম ও স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন ফরিদসহ অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বিএম আমিনুল ইসলাম ওরফে আকাশ নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং পৈত্রিক জমি ফিরে পেতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।
ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম ওরফে আকাশ জানান, রাজবাড়ী সদর থানাধীন রামপুর মৌজার এসএ ৩২ নম্বর দাগের পূর্ব পাশ থেকে ৮০ শতাংশ জমি তাঁর চাচা মোঃ আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের কাছ থেকে ক্রয় করেন মিজানুর রহমান। ১৯৮৭ সালের ২৮ অক্টোবর সম্পাদিত ৫২৫২ নম্বর দলিলমূলে জমিটি ক্রয় করে তাঁরা ভোগদখল করে আসছেন। অন্যদিকে, একই এসএ দাগের হাল বিএস ১৩৫ ও ১৩৬ নম্বর দাগের পশ্চিম পাশের ৮৪ শতাংশ জমি তাঁর বাবা আব্দুল কাদের বিশ্বাসের পৈত্রিক সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তাঁর পরিবার ওই জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
আকাশের অভিযোগ, সম্প্রতি মিজানুর রহমান, তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগম ও ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন ফরিদ যোগসাজশ করে দেশিও অস্ত্রশস্ত্রসহ অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনকে নিয়ে তাঁর পৈত্রিক জমি দখল করে চারপাশে বেড়া দেন। এতে বাধা দিলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে ইউপি সদস্য ফরিদ ও তাঁর লোকজন তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমান অসুস্থ থাকায় তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তাঁর স্বামী আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের কাছ থেকে জমিটি কিনে দলিল করেছেন। দলিলে জমির অবস্থান পূর্ব পাশে উল্লেখ থাকলেও সেখানে ফসল না হওয়ায় হামিদ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলে পশ্চিম পাশের জমি তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে দলিলে জমির অবস্থান পরিবর্তন করা হয়নি। আব্দুল কাদের বিশ্বাসের দলিলকৃত জমি আব্দুল হামিদ বিশ্বাস তাঁদের দখলে দিতে পারেন কি না,এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি জোরপূর্বক জমি দখলকারী মিজানুর রহমানের স্ত্রী রহিমা বেগম ।
অন্যদিকে, ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন ফরিদ অভিযোগকে বানোয়াট দাবি করে বলেন, সামনে নির্বাচন থাকায় পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তাঁর দাবি, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে মিজানুর রহমানের দখলে রয়েছে তবে দলিলে পূর্ব পাশে উল্লেখিত থাকলেও মিজানুর রহমান ভোগ দখল করছেন পশ্চিম পাশে, বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইউপি সদস্য ফরিদ ।
এ বিষয়ে খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক হারুন অর রশিদ বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটির তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে পুলিশের একটি তদন্ত রিপোর্টে দেখা যায় জমিটি প্রথম পক্ষ ভোগ দখল করবেন বলে তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখিত রয়েছে ।